আমি একটা নিশ সাইট কিনতে চাই – কিন্তু… আমি কিছু জানিনা

আমি আর্টিকেল লেখার মাঝপথে বুঝতে পারলাম, নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস এবং পুরনো নিশ সাইট অন্যের থেকে কেনা – এই দু’টো বিষয়ের কোনটার কথা বলেছি, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হবে। আমি নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস যারা দিচ্ছেন, তাদেরকে নিয়ে কিছু বলিনি, পুরনো সাইট যারা বিক্রি করছেন এবং যারা কিনতে চাচ্ছেন, তাদেরকেই মূলত বুঝিয়েছি। অতএব, ভুল বোঝার কোন অবকাশ নেই। ধন্যবাদ।

আমাকে প্রায়ই অনেকে জানান যে, তিনি একটি নিশ সাইট কিনতে চান। এরপর কেউ কেউ আমাকে সাইটের যাবতীয় তথ্য দেখান, মূল সাইট গোপন রেখে। কেউ কেউ হয়তো বিশ্বাস করে সাইটটাই আমাকে দেখান।

মূল বিষয়, আমাকে সাইটটা চেক করে দিতে হবে, সেটা কেনার মতো কিনা। যদি কেনার মতো হয়, তাহলে এর দাম কেমন হওয়া উচিৎ। অনেকে বিক্রি করবেন, তাই সাইট দেখান। কতো দামে বিক্রি করলে ভালো হয় সেটা জানতে চান।

খুবই সাধারণ ব্যাপার, তো এ নিয়ে ব্লগ লেখার কি আছে, তাইতো?

খুব বেশি কিছু নেই, তবে কিছু বিষয় সবাইকে না জানালেই না। সেজন্যেই দু’কলম লিখছি।

কারা কিনতে চায় এবং কেন?

সাইট কেনার ব্যাপারে নতুনরা খুবই আগ্রহী। বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন, এমন কারও মধ্যে আমাদের দেশে সাইট কেনার আগ্রহ তেমন দেখা যায়না। কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অলরেডি ভালো ইনকাম করছে এমন সাইট ছাড়া কোন সাইট কিনতে চাওয়ার কথা না।

নতুনরা অনেক কিছু সম্পর্কে অনভিজ্ঞ থাকেন, তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকে। এ কারণে তারা রেডিমেড সাইট কিনে নিতে চান, যাতে করে তার যে সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলোর পরেও সে একটা নিশ সাইটের মালিক হতে পারে।

বুদ্ধি খারাপ না, তবে এটা বোকার বুদ্ধি।

জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার জন্যে যেকেউ তাকে বোকা বানিয়ে হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে পারবে।

কেউ কেউ হাতে হারিকেন নিয়েও বুঝতে পারছেন না যে আসলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কয়েক মাস পরে বুঝতে পারেন অবশ্য। ​

একজন নিউবি মনে করে, আমি ৩০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে একজনের থেকে একটা নিশ সাইট কিনবো। কয়েক মাস পর সেই সাইট থেকে আমি হাজার হাজার ডলার কামাবো।

হাস্যকর মনে হচ্ছে?

মনে হলেও, এটাই বাস্তবতা। নতুন নতুন এরকমটা চিন্তা করা অমৌলিক কিছুনা।

কিন্তু এটা কখনোই সত্যি হয়না এবং সে বুঝেও না যে এটা সত্যি হওয়ার কথাও ছিলনা।

সাইট কেনার পরেও যে সেটার জন্যে আরও কন্টেন্ট প্রয়োজন, লিঙ্ক বিল্ডিং পারপাসে খরচ করা প্রয়োজন পড়বে – সেটা অনেকেই জানেনা। যারা সাইট বিক্রি করেন, তারাও এ বিষয়টা খুব একটা খোলাসা করে জানান না। ​

কারা সাইট বিক্রি করতে চায়?

বিষয়টা সেনসিটিভ, তাই গৎবাঁধা করে একবারে বলে দেয়া যাবেনা। নির্দিষ্ট করে বোঝাতে হবে।

যাদের সাইট থেকে ভালো ইনকাম আসছে, ধরে নিলাম নিচের দিকে ৩০০ এবং উপরের দিকে ২০০০। এরকম কেউ সাইট বিক্রি করতে চাইলে আমার কোন আপত্তি নেই।

১০০ ডলার মাসে ইনকাম আসলেও অথবা দুই মাসে ১০০ ডলার হলেও আপত্তি না হয় না করলাম।

কিন্তু যে সাইট থেকে ইনকাম আসেনা, সেই সাইট বিক্রি করে দিতে চান যারা, তারা নিজেরাও জানেন এই নিশ সাইট দিয়ে কিছু সম্ভব না। যদি বিক্রি করে দিয়ে কিছু বেনেফিট তুলে নিয়ে আসা যায়; এই ভেবে তারা সাইট টাকে আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিতে চান।

এমন কেউ সাইট বিক্রি করতে চাইলে, তিনি নির্দ্বিধায় আরেকজনকে ঠকাবেন।

অনেকের এমন হতে পারে যে, কাজের চাপে নিশ সাইটে সময় দেয়ার সুযোগ হচ্ছেনা বা আসলেই যৌক্তিক কারণে আর্জেন্ট (এটা অজুহাতও দেখায় অনেকে) টাকা দরকার, তাই মাঝপথে সাইট সেল করে দিচ্ছেন। সেটা ভিন্ন কথা। তাদের নিয়ে কমপ্লেইন নেই। তবে সাইট দিয়ে কিছু করা যাবেনা এটা জেনে বিক্রি করছেন না, এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।

যারা সাইট দিয়ে কিছু হবেনা, জানার পরেও আরেকজনের কাছে সেল করতে চান, তারা নির্দ্বিধায় অপরাধ করছেন। জেনেশুনে আরেকজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

এখানে মূল দোষ কার?

ইনকাম হচ্ছেনা এমন সাইট কেনা-বেচায় কোন নির্দিষ্ট পক্ষকে দোষারোপ করাটা অন্যায় হবে। দুই পক্ষেরই দোষ। আর যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে বেশি দোষ কার, তাহলে বলবো – যে সাইট কিনছে তার।

কেন?

কারণ, আপনি যখন লাভের আশায় কোথাও আপনার টাকা ইনভেস্ট করবেন – সেটা আপনার ব্যবসা। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশনকেও আপনার ব্যবসা হিসেবেই নিতে হবে।

আপনি যে ব্যবসায় নামবেন সেটার আদ্য-পান্ত জেনে নেয়া আপনার জন্যে অবশ্যই জরুরী। বাস্তবে অফলাইনে কোন ব্যবসা করলে যেমন সেটার সব কিছু জেনে এরপর ইনভেস্ট করতে হয়; নিশ সাইটের ক্ষেত্রেও সেটার ব্যতিক্রম হবেনা। এটাও ব্যবসা, এখানেও সব জেনে-শুনে, বুঝে, এরপর আসতে হবে। তা নাহলে হাতির পাঁচ পা দেখার মতো অবস্থা হবে।

রিসোর্স নেই, রিসোর্স পাইনা, সময় নেই ইত্যাদি নানা অজুহাত দিয়ে যদি কেউ এ থেকে নিজেকে আলাদা করতে চান, তাতেও লাভ নেই।

ব্যবসা করবেন ব্যবসার মতো।

দায়সারা ভাবে কাজ করতে চাইলে সেটা থেকে কোনদিনই ভালো আউট-কাম পাবেন না।

আপনি সাইট কিনতে চাইলে আপনার কেনার জন্যে যা যা দেখে নিতে হবে, সেটা দেখে নেয়া এবং জানা আপনার দায়িত্ব। আপনি সবকিছু ঠিক ঠাক ভাবে দেখে নিয়েছেন। তারপর আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক হলো কিনা সেটার জন্যে আমার কাছে অথবা অন্য কারও কাছে মতামত চাইতেই পারেন। সেক্ষেত্রে আমি দোষের কিছুই দেখিনা।

কারণ, আপনি অলরেডি সাইটের সব কিছু চেক করেছেন, এখন অভিজ্ঞ মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত পাকা করতে চাইছেন।

কিন্তু, যদি আপনি সাইট নিজে একটু আকটু চোখ বুলিয়ে আমাকে দেখতে দেন এবং আমার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে সাইট কিনেন/না কিনেন তাতে আপনারই দোষ।

দিনশেষে কোন কারণে ঐ সাইট নিয়ে যদি আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে আপনি চোখ বন্ধ করেও আমার দিকে আঙ্গুল তুলতে ভুল করবেন না।

কারণ, এমনিতে “ভাই ভাই”, টাকা ধরা খেলে “ভাইরে গণার টাইম নাই”। আমি জানি আমি একটু খারাপ ভাবে বলে ফেললাম, কিন্তু এটা বাস্তবতা।

এর সমাধান কি?

নতুন হিসেবে কখনোই একটা পুরনো সাইট কিনে কাজ করবেন না। অবশ্যই আপনাকে নিশ সাইট তৈরির সবকিছু জানতে হবে, বুঝতে পারতে হবে। এরপর যে টাকা দিয়ে সাইট কিনবেন সে টাকা দিয়ে নিজেই সাইট তৈরি করুন। এটা বুদ্ধিমানের কাজ।

আর যদি বাজেট খুবই ভালো হয়, সেক্ষেত্রে অলরেডি ইনকাম হচ্ছে, এমন সাইট কিনুন। এরপর নিজের যোগ্যতা আর বাজেট কাজে লাগিয়ে সেই সাইটকে আরও সফল করে তুলুন।

আর নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস নিলেও অবশ্যই খোঁজখবর নিয়ে নিবেন। আর জেনে রাখা ভালো, নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস নিলেও আপনাকে আরও ইনভেস্ট করে কন্টেন্ট অ্যাড করতে হবে, ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করতে হবে। মোট কথা, সীমিত বাজেট নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্যে নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস না, নিজেই কাজ করা ভালো।

যখন অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে, অনেক কিছুই গভীরে বুঝতে পারবেন, তখন হাজারটা নিশ সাইট বিল্ডিং সার্ভিস নিন কিংবা হাজারটা পুরনো সাইট কিনুন। আপনার ব্যাপার । তখন ভুল হবেনা।

কিন্তু তার আগে?

সূত্র : আরিফুল ইসলাম পলাশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *